
দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) সংসদীয় আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী বাতিলের দাবিতে পাকেরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌন র্যালি। গতকাল ১৬ নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ৬টায় পাকেরহাট বাজার এলাকায় এই র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় এলাকাবাসী। অংশগ্রহণকারীরা জানান, ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়াকে বাতিল করে তৃণমূলের গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে মনোনয়ন দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এডভোকেট আব্দুল হালিম এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। তারা প্রার্থী নির্বাচনের গুরুত্ব, তৃণমূলের মতামত এবং আসন্ন নির্বাচনের বাস্তবতা নিয়ে বিশদ বক্তব্য প্রদান করেন। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এডভোকেট আব্দুল হালিম বলেন, দিনাজপুর-৪ বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন। এখানে বছরের পর বছর যারা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে কাজ করেছেন, আন্দোলনে ছিলেন—মনোনয়ন তাদেরই হওয়া উচিত। ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়া স্থানীয়ভাবে ততটা গ্রহণযোগ্য নন। এমন প্রার্থী দিলে মাঠে ভোটারদের সাড়া পাওয়া কঠিন হবে। তৃণমূলের মতামত বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে নির্বাচনে পরাজয়ের ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অনুরোধ করছি এই আসনের বাস্তবতা বিবেচনা করে এমন প্রার্থী দিন, যাকে মানুষ ভালোবাসে, চেনে এবং বিশ্বাস করে।
মনোনয়ন প্রত্যাশী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিএনপির আজ সবচেয়ে বড় শক্তি তৃণমূল। তারা যদি হতাশ হয়, তাহলে নির্বাচনে সফল হওয়া কঠিন। ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে অসন্তোষ স্পষ্ট। এই অসন্তোষ নিয়েই নির্বাচন করলে বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় নেতাদের উচিত জনগণের গ্রহণযোগ্যতা ও মাঠের বাস্তবতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। তিনি আরও বলেন, খানসামা-চিরিরবন্দর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন এলাকা। যাকে ভোটাররা গ্রহণ করবে, তাকেই মনোনয়ন দিতে হবে। ভুল সিদ্ধান্ত আসনের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
খানসামা উপজেলা বিএনপির আহ্বায় কমিটির সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ বলেন, তৃণমূল কর্মীরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাদের পরামর্শ না নিয়ে মনোনয়ন দিলে তারা হতাশ হয়। এই আসনে যাদের জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন—মনোনয়ন তাদের প্রাপ্য। আক্তারুজ্জামান মিয়া স্থানীয়ভাবে সেই আস্থা তৈরি করতে পারেননি। তাই আমাদের দাবি পুনর্বিবেচনা করে একজন গ্রহণযোগ্য নেতাকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হোক।
খানসামা উপজেলার ৩নং আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ রশিদুল ইসলাম বলেন, আমরা মাঠে কাজ করি, মানুষের ঘরে যাই, দিন-রাত সংগ্রাম করি। কে জনগণের পাশে ছিল, কে কর্মীদের দেখাশোনা করেছে—সব কিছু তৃণমূল জানে। কিন্তু ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়া কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। তার নেতৃত্বে মাঠে কাজ করা কঠিন হবে। জনগণ তাকে তেমনভাবে মেনে নেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে তাকে প্রার্থী করলে বিএনপি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হোক, যিনি আন্দোলনের সময় পাশে ছিলেন, আমাদের সমস্যা শুনেছেন, সংগঠনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এই আসনে মানুষের পছন্দ ও তৃণমূলের মতামতকে মূল্য দিলে বিএনপি জিতবে। আর ভুল প্রার্থী দিলে ফলাফল নেতিবাচক হবে—এটাই বাস্তবতা।
চিরিরবন্দরের বয়স্ক ভোটার আবদুল কাদের (৬৫) বলেন, বহু বছর ধরে আমরা রাজনীতি দেখি। ভুল সিদ্ধান্ত দিলে ভোটাররা সাড়া দেয় না। এলাকাবাসীর চাহিদা বিবেচনা করতেই হবে। চিরিরবন্দরের আবুল হোসেন (৭০) বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জানাতে এসেছি যাকে মানুষ গ্রহণ ও বিশ্বাস করে, মনোনয়ন যেন তাকেই দেওয়া হয়।
মৌন র্যালিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
আরও পড়ুনঃ মোল্লাহাটে আইনশৃঙ্খলা স্থীতিশীল রাখতে যৌথবাহিনীর অভিযান।
উপদেষ্টা:
প্রকাশক: মোছাঃ খাদিজা আক্তার
বিথী
সম্পাদক: আফজাল শরীফ
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ হারুন-অর-রশিদ
বার্তা সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম বাহার
সহকারী বার্তা সম্পাদক: মুহাম্মাদ লিটন ইসলাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন জব্বারগঞ্জ বাজার,
বকশীগঞ্জ, জামালপুর
Copyright © 2026 দশানী ২৪. All rights reserved.